দিনে সংসার, রাতে পড়াশোনা করে বিসিএস ক্যাডার ফারজানা

0
2768

দৈনিক শিক্ষাবার্তাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী উম্মে হাবিবা ফারজানা।বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর স্বপ্ন গুলো ডানা মেলার আগেই বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়েছে। সংসার সামলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াটা যুদ্ধ জয়ের মতোই। সেই কঠিন কাজটাই করেছেন তিনি।

অদম্য ইচ্ছে আর অধ্যবসায়ে প্রথমবার বিসিএস দিয়ে সুপারিশ পেয়েছেন প্রশাসন ক্যাডারে। তার বিসিএস জয়ের গল্পটা সহজ ছিলো না। কঠিন সংগ্রামের মধ্যদিয়েই যেতে হয়েছে তাকে। সফল হয়ে যোগ দিয়েছেন মাদারীপুর জেলা প্রশাসনে।

ফারজানার বাড়ি মাদারীপুরে, তবে বেড়ে উঠেন চট্টগ্রামে। নৌবাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ২০০৫ সালে এসএসসি ও ২০০৭ সালে এইচএসসি পাশ করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ে মনোবিজ্ঞানে ভর্তি হয়। অনার্স ২য় বর্ষে উঠে বাবা মায়ের সম্মতিতে বিয়ে করেন বেসরকারি কর্মকর্তাকে।

তিনি বলেন, বিয়ের পর অনেকেই বলতে শুরু করেন এখন আর পড়াশোনার কি দরকার। জামাই ভালো বেতনে চাকরি করেন। তবুও নিজের ইচ্ছায় পড়াশোনা চালিয়ে যাই। মাস্টার্স পরিক্ষার সময় ৮ মাসের গর্ভবতী ছিলাম অনেক কষ্ট করে পরিক্ষা দিয়েছি। আমার স্বামী, আবার মা বোন অনেক সাহায্য করেছে।

তিনি আরো বলেন,কন্যার জন্মের পরই শুরু হয় প্রকৃত জীবন সংগ্রাম। সন্তান হবার পর চার বছর পড়াশোনা থেকে দূরে সরে যাই। এসময় বন্ধুদের ক্যারিয়ার দেখে আবার বিসিএস দেয়ার কথা চিন্তা করি। মূলত বন্ধুদের বিসিএস ক্যাডার হওয়াই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে নতুন করে পড়া শুরু করতে।

ফারজানা জানালেন, লিখিত পরীক্ষার আগে পড়ালেখার সুযোগ পেয়েছেন মাত্র দেড় মাস। সেসময় স্বামী-মা ও বোনের কাছ থেকে বেশ সহযোগিতা পেয়েছেন তিনি। লিখিত পরীক্ষায় সফলতার পর ভাইভাতেও সফল হন ফারজানা। সুপারিশপ্রাপ্ত হন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে। বর্তমানে তিনি মাদারীপুরে কর্মরত আছেন।

বিসিএসে কিভাবে সফল হওয়া যায় :

– সময়কে কাজে লাগাতে হবে প্রতি সেকেন্ড।

– যতক্ষণ পড়বে ডিভাইস থেকে দূরে থাকবে।

– আমি সব কাজ শেষ করে রাত ১১ টার পরে পড়া শুরু করতাম, রাতের পড়া মোবাইলে রেকর্ড করে রাখতাম, মেয়েকে স্কুলে নিয়ে গিয়ে হেডফোন কানে দিয়ে শুনতাম সেই পড়াগুলোই। এতে রিভিশন হয়ে যেত।

– পড়া মনে রাখার জন্য বই না, পাশে খাতাও রাখতে হবে। লিখে লিখে পড়তে হবে।

– প্রতিদিন একটা টার্গেট ঠিক করতে হবে, আজ কতটুকু পড়বে। খুব চেষ্টা করতে হবে সেই টার্গেট পূরণ করার।

– অনেক বেশি বই না কিনে একটা বই ভালোভাবে বার বার পড়া উচিৎ।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও ডাবল বিসিএসঃ ৩৬ তমে প্রশাসন,৩৮ তমে পররাষ্ট্র

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও মেধার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন চট্টগ্রাম কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র মোঃ আল আমিন সরকার। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও নিজের স্বপ্নকে সত্যি করেছেন। এছাড়া অসংখ্য তরুনের জন্য হয়ের আলোর প্রদীপ।প্রমান করেছেন অদম্য ইচ্ছে থাকলে সবই সম্ভব।

আল আমিন সরকার ৩৮ তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়েছেন। এর আগে তিনি ৩৬ তম বিসিএসেও সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হন। ৩৬ তম বিসিএসে তিনি পুলিশ ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হয়ে এখন র‍্যাবে কর্মরত।

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন ( পিএসসি) ৩৮ তম বিসিএসের চুড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করেন। এতে ২ হাজার ২০৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য চুড়ান্ত ভাবে সুপারিশ করা হয়।